সন্তান জন্মদানের পর একজন মা তার নিজের শরীর নিয়ে নানা দিক থেকে দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়ে। এর মধ্যে অন্যতম হলো মাতৃত্বজনিত দাগ বা স্ট্রেচ মার্ক। কয়েকটি সঠিক নিয়ম মেনে চললে অনায়াসে এই স্ট্রেচ মার্ক থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

প্রেগন্যান্সি স্ট্রেচমার্ক নিয়ে আসলে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। সন্তান আর মা কারো জন্যই স্ট্রেচ মার্ক বিপজ্জনক নয়। সন্তান ধারণের ফলে ত্বকে এই দাগ তৈরি হয়। দেখতে খারাপ লাগা ছাড়া এই দাগের কোনও খারাপ প্রভাব নেই। আমাদের ভুল ধারণা রয়েছে যে স্ট্রেচ মার্ক শুধুমাত্র তলপেটেই দেখা দেয়। আসলে তা নয়। পেট, থাই, বুক, লোয়ার ব্যাক-অর্থাৎ শরীরের যে অংশে বেশি ফ্যাট থাকে সেখানেই স্ট্রেচ মার্ক দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে।

সাধারণত প্রেগন্যান্সির বিশ সপ্তাহের মাথায় এই স্ট্রেচ মার্ক দেখা দেয়। এই সময় ওজন প্রায় ৯ থেকে ১২ কেজি বেড়ে যায়। এর পর প্রতি সপ্তাহে আধ কেজি করে ওজন বাড়তে থাকে। হঠাৎ করে এত ওজন বেড়ে যাওয়া এবং বাড়তে থাকার ফলে প্রেগন্যান্সির থার্ড ট্রাইমেস্টার থেকে স্ট্রেচ মার্ক দেখা দেয়।

এটা সব প্রেগন্যান্ট নারীদেরই হতে পারে। যদিও অনেকে মনে করেন ওজন কম হলে স্ট্রেচ মার্ক হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। কারণ  প্রেগন্যান্সির সময়ও শরীর খুব বেশি মোটা হয় না। কিন্তু এই ধারণা ভুল। প্রেগন্যান্সির সময় অপেক্ষাকৃত কম ওজনের নারীদেরও ত্বক আর টিস্যু ভিতর থেকে ফেটে যায়। পরে অনেকের ক্ষেত্রে ঠিক হয়ে যায় আবার অনেকের ক্ষেত্রে দাগ থেকে যায়। নব্বই শতাংশ গর্ভবতী নারীরই স্ট্রেচ মার্ক হয়। এতে বিব্রত হওয়ার কিছুই নেই। এটা আপনার সন্তানের মতোই স্বাভাবিক একটি বিষয়। মন খারাপের কোনো কারণ নেই এ নিয়ে।

এই সময়টায় বিশেষভাবে পেটের ত্বকের যত্ন নিতে হবে। এতে মানসিক শান্তিও লাভ করা যায়। তাই প্রেগন্যান্সির সময় ত্বক যতটা সম্ভব হাইড্রেট রাখুন। ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খান। যেমন-মাছ, পালং শাক, বাদাম ইত্যাদি। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল খান বেশি করে। টমেটো খাবেন অবশ্যই। এগুলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করবে। ত্বক আর টিস্যু খুব তাড়াতাড়ি সেরে উঠবে। প্রচুর পরিমাণে পানি খান। দিনে অন্তত দু’বার নিয়ম করে ময়েশ্চারাইজার বা অলিভ ওয়েল ব্যবহার করুন। নিয়মিত এক্সরসাইজ করুন। এতে রক্তচালাচল ভালো হবে, স্ট্রেচ মার্ক কম পড়বে। তবে এক্সারসাইজ করুন চিকিত্সভকের পরামর্শ অনুযায়ী।

Leave a Reply

  • (not be published)