নির্বাচক হাবিবুল বাশার দুদিন আগে এই পরামর্শটাই দিচ্ছিলেন তাসকিন আহমেদকে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেললে ফিরে পাওয়া যায় ফিটনেস, ফিরে পাওয়া যায় ছন্দ—যে দুটি এই মুহূর্তে খুব দরকার তাসকিনের। জাতীয় লিগের চতুর্থ পর্ব খেলতে নেমে দুটিই পেলেন জাতীয় দলের বাইরে থাকা তরুণ পেসার। বগুড়ায় চট্টগ্রামের বিপক্ষে ৫ উইকেট পেয়েছেন তাসকিন। এই ৫ উইকেটের তাৎপর্য তাঁর কাছে অন্য রকম। ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পেলেন ৫ উইকেট। সেটিও বাবা হওয়ার পর প্রথম।

তাসকিনের তোপে চট্টগ্রাম প্রথম ইনিংসে অলআউট ২৩৬ রান করে। চট্টগ্রামের হয়ে দুর্দান্ত লড়েছেন তাসামুল হক, করেছেন ১১৬। তাসামুলের দিনেই আলো কেড়েছেন তাসকিন। সাদাপোশাকে প্রথমবারের মতো পেয়েছেন ৫ উইকেট। চোট, ফর্মহীনতায় কঠিন সময় পার করছিলেন তাসকিন। জাতীয় লিগের এই পারফরম্যান্স তাঁকে যে নতুন করে শুরু করতে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে, বগুড়া থেকে মুঠোফোনে সেটিই জানালেন, ‘প্রথম শ্রেণির ম্যাচে অনেকবার ৩ বা ৪ উইকেট পেয়েছি। প্রথমবারের মতো ৫ উইকেট পেলাম, অবশ্যই ভালো লাগছে। সেটির চেয়ে বেশি ভালো লাগছে, যেভাবে চেয়েছি সেভাবে বোলিং করতে পেরেছি। ফিটনেস নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি। পুরো ছন্দেই বোলিং করেছি। বলে সুইং ছিল, গতি ছিল, বৈচিত্র্য ছিল। ভালো ভালো বলেই উইকেট এসেছে। এই পারফরম্যান্সটা আমাকে সহায়তা করবে সামনে আরও ভালো করতে।’

বগুড়ায় যখন তাসকিন আলো ছড়াচ্ছেন, খুলনায় তখন দুর্দান্ত অলরাউন্ডার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন সৌম্য সরকার। সৌম্যর সঙ্গে দারুণ বোলিং করেছেন পেসার আল আমিনও। দুজনের তোপে রংপুর অলআউট ৩১৫ রানে। রংপুরের বিপক্ষে সৌম্য প্রথম ইনিংসে ৭৬ করেছেন। আজ দ্বিতীয় ইনিংসে আউট হয়েছেন ৭১ রান করে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট ১৮১ রান তুলে দিন শেষ করেছে খুলনা।

তবে দিনটা মনে রাখতে হবে সৌম্যর অসাধারণ বোলিংয়ের কারণে। ২৪ ওভারে ৭ মেডেন দিয়ে ৬১ রানে পেয়েছেন ৫ উইকেট। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট তো অবশ্যই ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো ৫ উইকেট পেলেন বাংলাদেশ দলের এই মিডিয়াম পেসার। প্রথমবারের মতো ৫ উইকেট পেয়েছিলেন ২০১২ সালের নভেম্বরে, জাতীয় লিগে এ রংপুরের বিপক্ষেই। আজ যে ৫ উইকেট পেয়েছেন তার ৪টিই আবার উইকেটকিপার নুরুল হাসানের ক্যাচ হয়ে। বাকিটা এসেছে এলবিডব্লু থেকে। তার মানে, ব্যাটসম্যানদের ব্যাটের কানায় লাগিয়ে উইকেট তুলে নিয়েছেন সৌম্য। দুর্দান্ত বোলিংয়ের রহস্য কী? প্রশ্ন শুনে সৌম্য এক চোট হাসলেন, ‘ব্যাটসম্যানরা আউট হয়ে গেছে তাই! বোলিংয়ের চেয়ে আমার ভাবনায় ব্যাটিংটাই বেশি। চেষ্টা করছি উইকেটে টিকে থাকতে। রানের চেয়ে উইকেটে টিকে থাকাই আমার জন্য বেশি জরুরি।’

সৌম্যকে অবশ্য কাল জাতীয় লিগ খেলেই রওনা দিতে হবে খুলনা থেকে। পরশু সকালেই নেমে যেতে হবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে। প্রস্তুতি ম্যাচের বিসিবি একাদশের অধিনায়ক যে তিনিই।-প্রথম আলো

Leave a Reply

  • (not be published)