যৌতুকের মামলায় জেল খাটানোর প্রতিশোধ নিতে নিজের স্ত্রীকে ধর্ষণ করিয়েছে লম্পট স্বামীর শরিফুল ইসলাম। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের পর ধর্ষকদেরকে গ্রেফতার করছে না মাধবদী থানা পুলিশ। ধর্ষকরা প্রকাশ্যে বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং ধর্ষিতা ও তার পিতা-মাতাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। শুধু তাই নয় ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের আশ্রয় ধর্ষকরা ঢাকার বসুন্ধরায় গিয়ে দোষীদের বাপের বাড়িতে একবার হামলা চালাবার চেষ্টা চালিয়েছে। গতকাল ধর্ষিতার পিতা সিরাজুল ইসলাম নরসিংদী প্রেসক্লাবে গিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ থেকে জানা গেছে, ঢাকার বসুন্ধরায় বসবাসকারী মো. সিরাজুল ইসলামের কন্যা সুকন্যার (ছদ্মনাম) সাথে মোবাইলে পরিচয় ঘটে মাধবদী নোয়াপাড়ার শামসুল হকের পুত্র শরিফুল ইসলামের। পরে ঘটনাক্রমে উভয়পক্ষের পিতা-মাতার সম্মতিতে কাবিনমূল্যে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর কিছুদিন যেতে না যেতেই লম্পট শরিফুল ইসলাম তার স্ত্রী ও কন্যার নিকট ৪ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। যৌতুক দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় লম্পট স্বামী শরিফুল ইসলাম সুকন্যাকে বেধড়ক মারধর করে। এতে সুকন্যা জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

খবর পেয়ে সুকন্যা আত্মীয়-স্বজন মাধবদী গিয়ে বিস্তারিত জানতে পারে। পরে সুকন্যা তার স্বামী শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে মাধবদী থানা একটি যৌতুকের মামলা দায়ের করে। এই মামলায় তাকে আটক কারাগারে প্রেরণ করা হয়। প্রায় মাসখানেক কারাভোগের পর আদালত থেকে অস্থায়ী জামিন লাভ করে। জামিন লাভের পরই লম্পট শরীফ প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে ওঠে।

এক পর্যায়ে সে শান্তিপূর্ণভাবে শান্তিপূর্ণভাবে ঘরসংসার করবে বলে আশ্বাস দিয়ে গত ১৬ ডিসেম্বর তার স্ত্রীকে তার বাপের বাড়ী ঢাকা বসুন্ধরার বাসভবন থেকে মাধবদীতে নিয়ে আসে। ওই দিন বিকেল ৫ টা থেকে আসামি শরিফুল ইসলাম, মো. আকরাম, মো. সেলিম মিয়া, মো. রিপন গৃহবধুকে নোয়াপাড়াস্থ ঢাকার ফজলুল হকের টিনসেড ঘরের একটি কক্ষে আটক রাখে। সন্ধ্যা ৭ টায় শরিফুল ও রিপনের উপস্থিতিতে ও তাদের সহযোগিতায় আকরাম ও সেলিম শরিফুল স্ত্রী সুকন্যাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় ধর্ষিতা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে অজ্ঞান অবস্থায় ফেলে রাখে। কয়েক ঘণ্টা পর কিছুটা সুস্থ হলে সুকন্যাকে ধর্ষকরা এ বলে হুমকি দেয়, ‘এ ঘটনা কাউকে জানালে অথবা মামলা দায়ের করলে পরিবারের সকলকে হত্যা করে লাশ গুম করা হবে। পরবর্তীতে পরিবারের লোকজনের সহায়তায় ধর্ষিতা গৃহবধু নরসিংদী সদর হাসপাতালে তার ডাক্তারী পরীক্ষা শেষে মাধবদী থানায় ৪ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করে। মামলা নং-২৪, তাং ১৯/১২/১৮, ধারা ৯(৩)/৩০। মামলা দায়েরের পর থেকে আসামিরা তাদের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে একাধিকবার সুকন্যার বাপের বাড়ী ঢাকা বসুন্ধরায় হামলার চেষ্টা চালায়। মোবাইল ফোনে সুকন্যা ও তার পরিবারের লোকজনকে হত্যার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে ।

এ ব্যাপারে নরসিংদী পুলিশ সুপারের নিকট গৃহবধু অভিযোগ করেছে। আসামিরা মাধবদী এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। ফলে গৃহবধু ও তার পরিবারের লোকজন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এ দিকে মামলার তারা গৃহবধুর চরিত্র হনন করতে অকথ্য মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুৎসা রটিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে আসামিদের গ্রেফতার করতে পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন নির্যাতিতা সুকন্যা।

Leave a Reply

  • (not be published)