কাঠে খোদাই করা বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা আল কোরআনের এক পাণ্ডুলিপি তৈরি করেছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটির পালেম্বঙ্গতে পাণ্ডুলিপি তৈরি করা হয়েছে। আল কোরআনের এ পাণ্ডলিপিটির নাম রাখা হয়েছে ‘কোরআনুল আকবর’।

বিশ্বের প্রসিদ্ধ লিপিকর্মী, শিল্পকর্মী, আর্টিস্ট ও শিল্পীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে ২০০২ সালে এহসানিয়া ইসলামিয়া মাদরাসার তত্ত্বাবধানে কাঠের ওপর খোদাই করে আল কোরআন লেখার কাজটি শুরু করা হয়।

‘ট্যাম্পু’ নামের এক ধরনের বিশেষ কাঠের ওপর লেখা হয়েছে এ কোরআন। এ কাঠটিতে উঁইপোকা কিংবা ঘূণ-এর আক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। কাঠটি পানি শোষণেও বিশেষ ক্ষমতা রাখে।

কাঠের ওপর খোদাই করে লেখা আল কোরআনুল কারিমের পুরো পাণ্ডুলিপি এখনো শেষ হয়নি। ১৫ পারা লেখা সম্পন্ন হয়েছে। ৭ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে ১ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে এতে। বাকি ১৫ পারা লেখার প্রস্তুতি চলছে।

১৫ পারা (১৬-৩০) আল কোরআন লেখার কাজে ব্যবহৃত কাঠের পুরুত্ব ছিল ২.৫৯ মিটার লম্বায় ১৭৭ সেন্টিমিটার এবং ১৪০ সেন্টিমিটার প্রস্থ। ৩১৫টি কাঠের তক্তার উভয় পিঠেই লেখা হয়েছে। এতে ৫ তলা ভবনের সমতুল্য আকার ধারণ করেছে পাণ্ডুলিপিটি।

পাণ্ডুলিপি তৈরিতে বাদামি রঙের ‘ট্যাম্পু’ কাঠের তক্তার মাঝখানে লেখা হয়েছে আল কোরআনের আয়াত। কাঠের চার পাশে বিভিন্ন নকশা ও দোয়া লেখা হয়েছে।

২০১২ সালের ৩০ জানুয়ারি ইন্দোনেশিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সুসিলো বামবাং ইয়োধোয়োনো আন্তর্জাতিক ইসলামী সংস্থা ওআইসির নেতৃবৃন্দদের নিয়ে বিশ্বের দীর্ঘতম কাঠে খোদাই করা
আল কোরআনের এ পাণ্ডুলিটির উদ্বোধন করেন।

১৫ পারার দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আল কোরআনের খোদাইকৃত অংশগুলো দর্শণার্থীদের জন্য পালেম্বঙ্গ গ্র্যান্ড মসজিদের সামনে স্থাপন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার মাঝে ১ হাজারেরও বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়া। মুসলিম রাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়াতে ৩০০টি স্থানীয় ভাষা রয়েছে। বৈচিত্রপূর্ণ জাতিগোষ্ঠীর বসবাসও রয়েছে দ্বীপ রাষ্ট্রটিতে।

পাণ্ডুলিপিটি দেখতে প্রতি বছরই হাজার হাজার দর্শক ইন্দোনেশিয়ার পালেম্বঙ্গে জড়ো হয়।
অনেক পরিশ্রমের ফসল ‘কুরআনুল আকবর’ বিশ্বের দীর্ঘ কোরআন। নিঃসন্দেহে এটি ইসলাম ও মুসলমানদের ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্যকে বৃদ্ধি করবে।

Leave a Reply

  • (not be published)