বস্তা ভরা নোট নিয়ে যখন ব্যাগে করে বাজার আনতে হয় তখন বুঝতে হবে বাজারে মুদ্রাস্ফীতি বিরাজ করছে। মুদ্রাস্ফীতি হচ্ছে সেই অবস্থা যখন বেশি পরিমাণ টাকায় খুব অল্প পরিমাণ পণ্য ক্রয় করা যায়। জিম্বাবুয়ে ও ইন্দোনেশিয়ার বাজারের অবস্থা কিছুদিন আগেও এই রকম ছিল।

ভেনেজুয়েলার বাজারেরও এখন ঠিক একই অবস্থা বিরাজ করছে। খাদ্য ও পণ্যদ্রব্য ক্রয় করতে সেখানে বস্তা ভর্তি টাকা খরচ করতে হয়। যেমন আড়াই কেজি ওজনের একটি মুরগি কিনতে ভেনেজুয়েলাবাসীকে খরচ করতে হয় দেড় কোটি টাকা!

সংবাদ সংস্থা রয়টার্স ও গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার মুদ্রাস্ফীতি অন্য যে কোনো দেশ ও সময়ের তুলনায় প্রকট আকার ধারণ করেছে। এক কেজি চাল কিনতে খরচ করতে হচ্ছে ২৫ লাখ বলিভার। এক কেজি টমেটো কিনতে গুনতে হবে পাঁচ লাখ বলিভার আর এক কেজি গাজর কিনতে ৩০ লাখ বলিভার। এক কেজি মাংস ৯৫ লাখ বলিভার অন্যদিকে আড়াই কেজি ওজনের একটি মুরগির দাম দেড় কোটি বলিভার। সপ্তাহ খানেক আগেও সেখানে একটি টয়লেট পেপার কিনতে লেগেছে ২৬ লাখ বলিভার।

গত সপ্তাহেই এই অবস্থা উত্তরণের পথ হিসেবে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট বাজারে কিছু নতুন নোট ছেড়েছে। তীব্র অর্থনৈতিক মন্দায় বলিভার (ভেনেজুয়েলার মুদ্রা) মূল্যহীন কাগজে পরিণত হলেও অবস্থার উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। এই বছরেই মুদ্রাস্ফীতির হার ১০ লাখ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে, এমনই হিসাব আইএমএফের।

নতুন নোট বাজারে ছাড়ায় ছুটির দিন ঘোষণা করা হয়। সেই দিন (২০ আগস্ট) ইন্টারনেট ব্যাংকিং বন্ধ ছিল কয়েক ঘন্টা। রয়টার্সের আলোকচিত্রীর বেশ কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। আর এ থেকেই ভেনেজুয়েলার বাজারের অবস্থা কিছুটা গোচরে আসে বিশ্ববাসীর। তবে মুদ্রাস্ফীতির এই সময়ে ভেনেজুয়েলাবাসীকে যে বেশ ভুগতে হচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Leave a Reply

  • (not be published)